সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকলেও স্থানীয় শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে মোটরসাইকেলের টায়ারে সমতুল্য আমদানি সুরক্ষা, কৃষি টায়ারে আরো শুল্ক সুবিধা এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত অপরিহার্য কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার জরুরি। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বিটিএমইএ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত বৈষম্য ও সীমিত সুরক্ষার কারণে দেশীয় টায়ার শিল্প তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি। অথচ পর্যাপ্ত নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় শিল্পই দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে লাইট ট্রাক টায়ারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, কৃষি টায়ার আমদানিতে ভ্যাট অন্তর্ভুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসংশ্লিষ্ট শিল্পে শুল্ক-কর সুবিধা দেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিটিএমইএ। তাদের ভাষ্য, আগে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি টায়ারের ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য থাকলেও আমদানীকৃত কৃষি টায়ারে একই ধরনের কর না থাকায় স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিলেন। প্রস্তাবিত বাজেটে সেই বৈষম্য আংশিকভাবে দূর হলেও এ শিল্পের বিকাশে আরো কার্যকর সুরক্ষা প্রয়োজন।
বিটিএমইএর দাবি, দেশে মোটরসাইকেল টায়ার উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে উঠলেও বাজারের বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। স্থানীয় মোটরসাইকেল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য দেশীয় টায়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সমপর্যায়ের আমদানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারবে।
টায়ার আমদানিকারকদের সাম্প্রতিক উদ্বেগের জবাবও দেয় সংগঠনটি। তাদের মতে, লাইট ট্রাক টায়ারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে পরিবহন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে—এমন আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে অবৈধ আমদানি বৃদ্ধি বা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কাকে তারা অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেন।
তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিটিএমইএ। সংগঠনটির মতে, রাবার অ্যাকসিলারেটর, আয়রন ওয়্যার (স্টিল কর্ড) ও এমএস নিপলের মতো টায়ার উৎপাদনের অপরিহার্য কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ করা হলে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে। তাই এসব কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে এসআরও সুবিধা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি তিন ও চার চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টায়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে বিটিএমইএ।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমইএর নেতারা বলেন, দেশের টায়ার শিল্পে এরই মধ্যে বড় অংকের বিনিয়োগ হয়েছে। ধারাবাহিক নীতিসহায়তা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে টায়ার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।